কীটনাশক: ফল ও সবজির মাধ্যমে শরীরে কী ঢুকছে?

ফল ও সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি
ফল ও সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ কমাতে
নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক।
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফল ও সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

ফল ও সবজি সুস্থ জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এসব খাদ্য উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল না মানার কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনেও খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সতর্কতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ফল ও সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নিয়ে উদ্বেগ

দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বগুড়ার কিছু এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো ও অন্যান্য ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু সবজিতে সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি কীটনাশক প্রয়োগের নজির রয়েছে। তবে এসব তথ্য নির্দিষ্ট এলাকা ও পরীক্ষিত নমুনার সঙ্গে সম্পর্কিত; এগুলো দিয়ে দেশের সব ফল ও সবজির অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না।

প্রতিবেদনটি পড়ুন: 

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ডেইলি সান-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি কর্মশালার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পরীক্ষিত সবজির ১০ শতাংশ এবং ফলের ৪ শতাংশ নমুনায় নির্ধারিত সীমার বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি ও পরীক্ষার বিস্তারিত বিবেচনা করে এসব পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

কীটনাশক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে?

ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। নিয়ম মেনে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করা হলে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ, বারবার স্প্রে করা কিংবা ফসল সংগ্রহের আগে প্রয়োজনীয় সময় অপেক্ষা না করলে ফল ও সবজিতে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে।

এসব খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে অবশিষ্টাংশ শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে কোনো খাদ্যে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেলেই তা বিষক্রিয়া ঘটাবে, এমন নয়। রাসায়নিকের ধরন, পরিমাণ, সংস্পর্শের সময়কাল এবং খাদ্যে অবশিষ্টাংশের মাত্রার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাত্রার সংস্পর্শে কীটনাশক তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে প্রজননস্বাস্থ্য ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার ঝুঁকিও থাকতে পারে। তবে সব কীটনাশকের প্রভাব এক নয়।

তথ্যসূত্র: 

ফল ও সবজি নিরাপদে খাওয়ার উপায়

কীটনাশকের সম্ভাব্য অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শ কমাতে ভোক্তারা কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করতে পারেন।

প্রথমত, ফল ও সবজি পরিষ্কার প্রবাহমান পানির নিচে ধরে হাত দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিতে হবে। বাঁধাকপি ও অন্যান্য পাতাজাতীয় সবজির বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত পাতা সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী খোসা ছাড়িয়েও খাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, ফল ও সবজি পরিষ্কারের জন্য সাবান, ডিটারজেন্ট বা ব্লিচ ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো খাদ্য পরিষ্কারের উপযোগী নয়। ভালোভাবে ধোয়া কিছু অবশিষ্টাংশ কমাতে সাহায্য করলেও সব ধরনের কীটনাশক সম্পূর্ণ দূর করার নিশ্চয়তা দেয় না।

নিরাপদে ফল ও সবজি ধোয়ার নির্দেশনা: 

কী করা প্রয়োজন?

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, অনুমোদিত পণ্য ব্যবহার এবং ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মেনে চলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বাজার থেকে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং অনিরাপদ খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে।

কৃষিতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব বালাইনাশক এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ালে রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

ফল ও সবজি খাওয়া বন্ধ করা সমস্যার সমাধান নয়। বরং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নিয়মিত পরীক্ষাগারভিত্তিক নজরদারি এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন-

মাইক্রোপ্লাস্টিক: কীভাবে শরীরে পৌঁছায় এবং বিজ্ঞান কী বলছে


সাইবার নিরাপত্তা: Facebook, WhatsApp ও YouTube অ্যাকাউন্ট কীভাবে নিরাপদ রাখবেন


Deepfake Technology কী? AI দিয়ে তৈরি নকল ছবি ও ভিডিও কীভাবে চিনবেন