ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ঝুঁকিতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা?
ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা।
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু?
ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট আংশিক ভোট গণনায় এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি। এতে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দর-কষাকষি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আংশিক ফলে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশের বেশি ব্যালট গণনার পর্যায়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পাওয়ার অবস্থানে ছিল। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ছিল ৪৮। অন্যদিকে, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার অবস্থানে ছিল।
তবে এসব সংখ্যা চূড়ান্ত ফল নয়। আরও কিছু ব্যালট গণনা ও যাচাই বাকি থাকায় আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং অন্যান্য ভোটারের বিশেষ পদ্ধতিতে জমা দেওয়া ব্যালটের হিসাব চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কোনো জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার গঠন করতে পারে না। অন্যান্য দলের সমর্থন আদায় করাও জরুরি।
নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরকেও সরকার গঠনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে হবে।
আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব দলের সমর্থন বা সংসদীয় অবস্থান সরকার গঠনের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোন দল কার সঙ্গে সমঝোতায় যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সরকার গঠনের আলোচনা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই ক্ষমতার সমীকরণ আরও পরিষ্কার হবে।
নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সামনে চ্যালেঞ্জ
নেতানিয়াহুর জন্য এবারের নির্বাচন কেবল আসনসংখ্যার লড়াই নয়; এটি তাঁর নেতৃত্ব, নিরাপত্তানীতি এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা, গাজায় যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী অবস্থান নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁর জোট এগিয়ে থাকায় এখনই তাঁকে ক্ষমতা হারাতে হচ্ছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
যদি নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে তিনি আবারও সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে বিকল্প সরকার গঠনের পথও খুলতে পারে।
আরব দলগুলোর আসন কি বদলে দেবে ক্ষমতার হিসাব?
এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা বেড়ে ১৯-এ পৌঁছানোর প্রাথমিক হিসাব দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে এই দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে নেতানিয়াহুর জোট আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছে। বিরোধী শিবিরের মধ্যেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সমঝোতা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। গাজা যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্যও ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও ক্ষমতা ধরে রাখা এখনো নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত ভোট গণনা, ছোট দলগুলোর অবস্থান এবং সরকার গঠনের আলোচনা নির্ধারণ করবে দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। আপাতত নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা যেমন উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তেমনি তাঁর আবারও সরকার গঠনের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়নি।
সর্বশেষ অবস্থা: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া আংশিক ফলের ভিত্তিতে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।