বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, বাংলাদেশে কি আরও কমবে সোনার দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন বাংলাদেশের বাজারে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত:২৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, বাংলাদেশে কি কমবে সোনার দাম?
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে।
২৩ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক
বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪,০১৬.২৭ ডলারে
নেমেছে। সপ্তাহজুড়ে দাম কমেছে প্রায় ৩.৫ শতাংশ, যা চার
মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ
ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার
প্রভাব কি দেশের বাজারেও পড়বে?
বাংলাদেশেও সম্প্রতি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। তবে
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকলেও দেশে সঙ্গে সঙ্গে একই হারে দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
বাংলাদেশে সর্বশেষ সোনার দাম কত?
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ অক্টোবর
২০২৬ থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১,৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০
টাকা নির্ধারণ করেছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা এবং ১৮
ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির
স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।
এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১.৬৬৪ গ্রাম। গয়না কেনার সময়
নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে মজুরি ও প্রযোজ্য কর যোগ হতে পারে। তাই কেনার আগে
সর্বশেষ মূল্যতালিকা যাচাই করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়
মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জ্বালানির ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পণ্য ও
পরিষেবার দাম বাড়তে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ
সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে, এমন প্রত্যাশাও তৈরি হচ্ছে।
সুদের হার ও ডলারের প্রভাব
স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার
বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবাহী সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি
করতে পারে।
রয়টার্সের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও তেলের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির
আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশাকে স্বর্ণের দরপতনের
গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে থাকলে বাংলাদেশের
বাজারেও দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণে
স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ডলারের বিপরীতে টাকার
মূল্য কমে গেলে আমদানি ব্যয় বেশি থাকতে পারে। আবার স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ
ও চাহিদার পরিবর্তনও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাজুস বাজার পরিস্থিতি
পর্যালোচনা করে নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে।
তাই নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম
আরও কমবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্বর্ণ কিনতে চাইলে ক্রেতাদের করণীয়
যাঁরা বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা বিনিয়োগের
জন্য স্বর্ণ কিনতে চান, তাঁদের কেনার দিন বাজুসের সর্বশেষ
দাম যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি গয়নার মজুরি, প্রযোজ্য কর,
ক্যারেট এবং হলমার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
শুধু এক দিনের আন্তর্জাতিক দরপতন দেখে বড় অঙ্কের
কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং নিজের আর্থিক
সামর্থ্য বিবেচনা করাই ভালো।
শেষ কথা
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমায় বাংলাদেশের ক্রেতাদের
জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারেও সম্প্রতি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের
দাম কমানো হয়েছে। তবে আগামী দিনে দাম আরও কমবে কি না, তা নির্ভর করবে
আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় সরবরাহ এবং বাজুসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
স্বর্ণ কেনার আগে সর্বশেষ মূল্যতালিকা যাচাই করুন এবং
গয়নার চূড়ান্ত মূল্য সম্পর্কে বিক্রেতার কাছ থেকে পরিষ্কার হিসাব নিন।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।