গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন নিয়ে উদ্বেগ, ভারতের সঙ্গে আলোচনা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬
গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন নিয়ে উদ্বেগ, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ
গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি বা কার্যকর সমঝোতা না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও নদী-পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভারতের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পানিবণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তি পারস্পরিক সুবিধা ও সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। তবে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার পানিচুক্তি?
গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিত। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নদীর নাব্যতা এবং মিঠাপানির পরিবেশ রক্ষায় এ নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা নির্ধারণ করে। সাধারণত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনভিত্তিক হিসাবের মাধ্যমে পানি বণ্টন করা হয়।
চুক্তিতে পানির প্রবাহ অনুযায়ী বণ্টনের বিভিন্ন বিধান রয়েছে। তবে বাংলাদেশের জন্য সারা বছরের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও পরিবেশে কী প্রভাব পড়তে পারে?
গঙ্গা-পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের চাহিদা পানিসংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া গড়াই নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকলে সুন্দরবন ও আশপাশের অঞ্চলে মিঠাপানির সরবরাহ এবং লবণাক্ততার ভারসাম্য রক্ষার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। নদীর নাব্যতা কমে গেলে নৌপরিবহন, মাছের আবাসস্থল এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবিকাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এএফপির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শুষ্ক বরেন্দ্র অঞ্চলে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং কৃষি ও মাছ ধরার ওপর এর প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিবেচনা করা জরুরি।
নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কী?
বাংলাদেশের জন্য নতুন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে শুষ্ক মৌসুমে পানির অধিকতর পূর্বানুমানযোগ্য সরবরাহ, পানিপ্রবাহ পরিমাপের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং নদীর পানি-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত বিনিময়।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাতের ধরন, উজানে পানির চাহিদা এবং নদীর সামগ্রিক অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এসব বিষয় বিবেচনা করা হলে দুই দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা ছাড়াও একাধিক অভিন্ন নদী রয়েছে। তাই গঙ্গার পানিচুক্তির আলোচনাকে বৃহত্তর আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করা হলে তা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদাও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ
গঙ্গার পানিবণ্টন শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মতো রাজ্যের পানির চাহিদাও আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলে বিদ্যমান চুক্তির পর্যালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদা বিবেচনার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।
তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আলোচনা ও দুই দেশের সম্মত শর্তের ওপর।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে?
১৯৯৬ সালের চুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান নেই। ফলে ১২ ডিসেম্বরের আগে নতুন চুক্তি, নবায়ন বা অন্য কোনো কার্যকর সমঝোতা না হলে পরবর্তী সময়ে পানি বণ্টন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা, প্রযোজ্য আইনগত অবস্থান এবং সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার ওপর।
উপসংহার
গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই দেশের সমঝোতা হলে শুষ্ক মৌসুমে পানিবণ্টনের অনিশ্চয়তা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যূনতম পানিপ্রবাহ, তথ্য বিনিময় ও নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনা করা জরুরি।
এখন দেখার বিষয়, ডিসেম্বরের সময়সীমার আগে বাংলাদেশ ও ভারত নতুন চুক্তি বা কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।