ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে বাংলাদেশে। মশাবাহিত এই রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন ডেঙ্গু রোগী। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। এ সময়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৫ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৯২ হাজার ২১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬ হাজার ১৫২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, নতুন করে মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে দুইজন করে মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে। এছাড়া সিলেট ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। সরকারি হিসাবে নতুন মৃত্যুর পর ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে।
সরকারি ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। বয়সভিত্তিক হিসাবেও বিভিন্ন বয়সী মানুষ ডেঙ্গুর শিকার হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০ জন
ডেঙ্গুর সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৬০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ১ হাজার ১৯১ জন এবং নারী রোগী ৬৬৯ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও কয়েক হাজার। ফলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর চাপ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ১ হাজার ৮৫২ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে নতুন রোগী ভর্তির হার বেশি থাকায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
কেন দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু?
ডেঙ্গুর বিস্তারের পেছনে এডিস মশার প্রজনন এবং অনুকূল পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখছে। জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মশা নিধনের ওপর নির্ভর করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং বর্ষা ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে ডেঙ্গুর চারটি ধরনই বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অক্টোবরেই বাড়ছে মৃত্যুর চাপ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। অক্টোবরের শুরুতেও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ ৮ মৃত্যুর আগে কয়েক দিনেও একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক, নার্স এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন?
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ফ্রিজ বা এসির নিচের পানি, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
দিনের বেলাতেও এডিস মশা কামড়াতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি, মশা প্রতিরোধক এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে কি না, সেদিকে সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন।
দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনেও পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা—সবকিছুকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু ও ১ হাজার ৮৬০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা তাই শুধু একটি দৈনিক পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জনসচেতনতার জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।