কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের একটি প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক। কক্সবাজার প্রতিনিধি | প্রকাশিত:১৮ অক্টোবর, ২০২৬
কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন: নিহত ১০, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
কক্সবাজারের ইনানীতে একটি পর্যটন রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কীভাবে আগুনের সূত্রপাত?
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকতের পাটোয়ারটেক এলাকায় রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাঠের তৈরি ভবনটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। উদ্ধারকর্মীরা ভবনটি থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন ছিল না
আগেই সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস
এ ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, রিসোর্টটিতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন ও মৌলিক সুরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জুনে রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়াই চালু ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম এবং অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার মতো মৌলিক ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগুন লাগলে পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তদন্ত কমিটি গঠন, কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
পুলিশ রিসোর্টের ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করতে হবে।
পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকার প্রায় ২৫০টি স্থাপনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ঘাটতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
এই দুর্ঘটনা পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। প্রতিটি হোটেল ও রিসোর্টে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অ্যালার্ম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
শেষ কথা
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের প্রাণহানি শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক তদারকির গুরুত্বও সামনে এনেছে। তদন্তে আগুনের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।