জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও উপকূল
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় ভাঙন বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের
ভবিষ্যৎ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও উপকূল
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রমেই উদ্বেগজনক
হয়ে উঠছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং মাটিতে লবণাক্ততা
বাড়ার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে
পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না
হলে আগামী কয়েক দশকে উপকূলীয় জনপদ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির
আশঙ্কা কতটা?
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) ২১ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিতAsia-Pacific
Climate Report 2026: Coastal Risks On The Rise – Actions For A Resilient
Future প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ
নির্গমন পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ
প্রতিবছর উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭.৫ শতাংশ
অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন।
প্রতিবেদনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি
উপকূলীয় ভূমি দেবে যাওয়া, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা
ও নোয়াখালীর বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস
ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এসব অঞ্চলে
জোয়ারের পানি আরও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এতে বসতভিটা, ফসলি
জমি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে।
কৃষি ও সুপেয় পানিতে লবণাক্ততার
প্রভাব
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি নদী, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ
পানির উৎসে প্রবেশ করলে নিরাপদ পানির সংকট বাড়তে পারে। মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি
পেলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে
পারে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের আয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে।
জলবায়ু অভিবাসন ও জীবিকার সংকট
ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস হারালে অনেক
পরিবার কাজের সন্ধানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে
চলে যেতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে শহরে আবাসন, কর্মসংস্থান,
স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, নারী, শিশু
ও বয়স্ক মানুষ এই সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কী করা
জরুরি?
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় বাঁধের
রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা, পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড়
আশ্রয়কেন্দ্র এবং উপকূলীয় বন সংরক্ষণ জরুরি। সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বন উপকূলকে
ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাশাপাশি লবণাক্ততা-সহনশীল ফসলের সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি
সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীল
অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প
কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনে পরিকল্পিত পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উচ্চ
রেজল্যুশনের জলবায়ু পূর্বাভাসের তথ্য এবং নতুন জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেল চালুর
কথা জানিয়েছে। এসব প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার দুর্যোগের প্রস্তুতি ও উপকূলীয়
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য শুধু পরিবেশগত সমস্যা
নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও মানুষের বসবাসের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঠেকাতে বৈশ্বিকভাবে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর
পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিজস্ব অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, গবেষক,
উন্নয়ন সহযোগী ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগই পারে
ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে। এখনকার পরিকল্পনা ও বিনিয়োগই নির্ধারণ করবে আগামী
প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের উপকূল কতটা নিরাপদ থাকবে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।