জাতিসংঘে তারেক রহমান: বিশ্বকে বাংলাদেশের কী বার্তা?
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘে তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা
জাতিসংঘে তারেক রহমান এর ভাষণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতার বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, ফিলিস্তিন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলেন।
বাংলাদেশের পুনর্গঠনে ৩-আর কৌশল
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি ছিল বাংলাদেশের পুনর্গঠন। তিনি সরকারের রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন বা ৩-আর কৌশলের কথা জানান।
সরকারের এই কৌশলের লক্ষ্য হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন এবং পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
তরুণ ও নারীদের জন্য সুযোগ তৈরী
ভাষণে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
সংঘাতের সমাধানে সংলাপের আহ্বান
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধের কারণে মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপের বিষয় উঠে আসে।
বাংলাদেশ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও তিনি জানান।
রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিন ও বিশ্বশান্তির বার্তা
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দেশের অভ্যন্তরে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও ভাষণে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কি
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় পাশাপাশি উঠে এসেছে। একদিকে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা বলেছেন, অন্যদিকে শান্তি, কূটনীতি, জলবায়ু সহায়তা, রোহিঙ্গা সংকট ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ভাষণের শেষদিকে তিনি এমন একটি বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলে ধরেন যেখানে তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।
এই লক্ষ্যকে তিনি “সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ” প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন। জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই সমন্বিত বার্তাই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণের প্রধান বিষয়গুলোর একটি।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।