অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়: তিনজন আটক, উদ্ধার সেই আইফোন
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে তিনজন আটক ও উদ্ধার সেই আইফোন।
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়: তিনজন আটক
অপ্রতীম হত্যা তদন্তে নতুন অগ্রগতি
অপ্রতীম হত্যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তের মধ্যে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মায়ের আইফোন উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।
১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়। তার সঙ্গে ছিল মায়ের আইফোন। এরপর সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিসিটিভিতে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। একটি ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সূত্র ধরে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়। তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে।
উদ্ধার অপ্রতীমের মায়ের সেই আইফোন
তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত অগ্রগতি হলো অপ্রতীমের মায়ের আইফোন উদ্ধার। পুলিশ শনিবার রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আইফোনটি উদ্ধার হওয়ার পর তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করছেন। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
তদন্তে আইফোনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হলেও, ঘটনার পেছনে এটিই একমাত্র কারণ কি না তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশও জানিয়েছে, তারা একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি বা অনুমানকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে না দেখে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক প্রকাশ, ক্লাস পরীক্ষা সব স্থগিত
অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিবার সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে। ওই দিন সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরাও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার গতিবিধি কী ছিল, কার সঙ্গে সে গিয়েছিল, আইফোনটি কীভাবে অন্যের কাছে গেল এবং লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় তার মরদেহ কীভাবে পৌঁছাল।
সিসিটিভি ফুটেজ, আইফোন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত অভিযোগ বা দায় নির্ধারণের আগে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।