Khalilur Rahman UNGA President: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান।
Khalilur Rahman UNGA President: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন খলিলুর রহমান
Khalilur Rahman UNGA President হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক শপথের মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। আগামী এক বছর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় ফোরামটির কার্যক্রম পরিচালনায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তির পর ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান শপথ নেন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।
চার দশক পর বাংলাদেশের প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি
ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রায় ৪০ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন।
ফলে খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটে জয়ী হয়েই পেয়েছিলেন ঐতিহাসিক দায়িত্ব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকুরিসের সঙ্গে। ২ জুন ২০২৬ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ব্যালট দেওয়া হয়েছিল।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঘুরে ঘুরে আসে। ৮১তম অধিবেশনের জন্য সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল।
এক বছর বিশ্ব কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নেতৃত্ব
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলো বিশ্বের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় ফোরাম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে এখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All” অর্থাৎ আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রাখা হয়েছে।
এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাধারণ পরিষদের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার
শপথ গ্রহণের সময় ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘের সনদ ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির আচরণবিধি অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বাইরের কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎসের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না।
তার এই বক্তব্য সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে। সভাপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মতামত উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা।
প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব
শপথ গ্রহণের পরই ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ড. খলিলুর রহমানের। এর মাধ্যমে শপথের পরপরই তিনি নতুন দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।
জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, অধিবেশনটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ শেষ হবে।
বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক গুরুত্ব
খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতারও একটি বড় স্বীকৃতি।
বিশেষ করে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার মতো বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাই ড. খলিলুর রহমান শুধু একটি আন্তর্জাতিক পদে অধিষ্ঠিত হননি; একই সঙ্গে বিশ্ব কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক বছরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বেরও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।