ইরান যুদ্ধের খরচ ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশের উপর কি প্রভাব

ইরান যুদ্ধের খরচ ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার
ইরান যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের খরচ ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশেও বাড়ছে চাপ

ইরান যুদ্ধের খরচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হিসাব প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী,৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কিন ব্যয় প্রায় ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইরান যুদ্ধের খরচের বড় অংশ কোন খাতে?

নতুন হিসাব অনুযায়ী,ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহের জন্য। এই খাতে প্রায় ২৮.১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহে আরও প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। বিমান,নৌবাহিনী,সেনা মোতায়েন,ঘাঁটি পরিচালনা এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমের ব্যয়ও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

Iran war’s cost grows to $43.6 billion-AP

কয়েক সপ্তাহেই ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে

এর আগে Congressional Budget Office জানিয়েছিল,১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় সংস্থাটি জানিয়েছিল,সংঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

পরবর্তী সময়ে নতুন সামরিক হিসাব ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় বোঝা যাচ্ছে,যুদ্ধের আর্থিক চাপ দ্রুত বাড়ছে।

হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝার জন্য হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব জানা প্রয়োজন। এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ।

এই অঞ্চলে সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়ে এশিয়া,ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে।

Reuters জানিয়েছে, বর্তমান সংঘাতের কারণে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে এবং এশিয়ার এলএনজি বাজারে দাম প্রায় ৩০ ডলার প্রতি মিলিয়ন বিটিইউ পর্যন্ত উঠে গেছে। বাংলাদেশ আমদানি করা এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই পরিস্থিতি দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে চাপ তৈরি করছে।

বাংলাদেশের উপর কী প্রভাব পড়ছে?

বাংলাদেশ সরাসরি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশ নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম যুগান্তর জানিয়েছে,মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে। বেশি দামে জ্বালানি আমদানি এবং তুলনামূলক কম দামে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের কারণে সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবহন,বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পরবর্তীতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যেও পড়তে পারে।

তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজারে ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে,তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম,যুদ্ধের সময়কাল,সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের আমদানি ও মূল্য ব্যবস্থাপনার ওপর।

৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার কি যুদ্ধের চূড়ান্ত হিসাব?

না। ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার হলো ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি সামরিক ব্যয়ের হিসাব,চূড়ান্ত যুদ্ধ ব্যয় নয়। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্র পুনঃসংগ্রহের ব্যয় পুরোপুরি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে সংঘাত চলতে থাকলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

Bloomberg Government: Pentagon gives $43.6B Iran cost estimate

এ যুদ্ধের ভবিষ্যত কী হতে পারে?

ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন সামরিক ব্যয়ের সীমা ছাড়িয়ে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয় একটি বড় আর্থিক বোঝা। অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি।

সুতরাং ইরান যুদ্ধের খরচ শুধু ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামরিক ব্যয়,জ্বালানি বাজার,আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।


Follow us on Facebook


আরো পড়ুন-

মাইক্রোপ্লাস্টিক: কীভাবে শরীরে পৌঁছায় এবং বিজ্ঞান কী বলছে


Our YouTube Channel