ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: জাতিসংঘে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে জাতিসংঘের কূটনৈতিক তৎপরতা।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: জাতিসংঘে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা,
হরমুজ প্রণালিতে কী হচ্ছে?
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে সামনে রেখে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি গাজা, ইউক্রেন, সুদানসহ বিভিন্ন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও বিশ্বনেতারা আলোচনায় বসছেন।
Associated Press-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের এবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানসহ একাধিক যুদ্ধ, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কে ইরানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা আগের অবস্থানে ফিরবে না।
ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট দাবি ও অধিকার স্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব শর্তের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
হরমুজে জাহাজ চলাচল কতটা কমেছে?
Reuters এর ২১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৩৭টি।
সংঘাত শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে হরমুজ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। Reuters জানিয়েছে, কিছু তেলবাহী জাহাজ এখনো ঝুঁকি নিয়ে এই জলপথ ব্যবহার করছে। কয়েকটি জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডারও বন্ধ রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। Reuters জানিয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।
অর্থাৎ হরমুজ সংকট থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সবসময় একই দিকে যাবে এমন নয়। সরবরাহ, কূটনৈতিক অগ্রগতি, সামরিক পরিস্থিতি এবং বিকল্প রপ্তানি পথ সবকিছু মিলেই বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কি আবার বাড়তে পারে?
২১ সেপ্টেম্বর ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একজন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সতর্ক করেছেন। Associated Press-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি জানান, সংঘাত আরও বাড়লে ইরান তাদের অস্ত্র, সামরিক কৌশল ও লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে Reuters জানিয়েছে।
তবে এসব বক্তব্য এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি বা স্থায়ী সমঝোতায় পরিণত হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে নতুন ঘটনা
উত্তেজনার মধ্যেই ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন ক্রু আহত হয়েছেন। জাহাজটি নিজস্ব শক্তিতে বন্দরের দিকে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ঘটনার দায় কার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
ভবিষ্যত কী হতে পারে?
বর্তমানে তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজরে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এগোয় কি না এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কোনো নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যায় কি না।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জাহাজ চলাচল এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি ব্যয়ের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাজারে অনিশ্চয়তা কমতে পারে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠক এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে এই সংকটের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।