ডেঙ্গু পরিস্থিতি: বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি রোগী, প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়ছে চাপ
ডেঙ্গু রোগ বাহিত মশা
নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি: বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি রোগী, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা ও মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫০ হাজার ২৭৬ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ৫০ হাজার ২৭৬ জন রোগীর মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৯৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৩৫ জন, খুলনায় ১৯৯ জন, বরিশালে ১৪৪ জন এবং চট্টগ্রামে ১০৩ জন রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহীতে ৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন, রংপুরে ৪৭ জন এবং সিলেটে সাতজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১ হাজার ৫৭১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং নয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই দিনটি চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর দিক থেকে অন্যতম ভয়াবহ দিন হিসেবে সামনে আসে।
এরপর ১০ সেপ্টেম্বরও ১ হাজার ৪৯২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৩৯ জনের।
এ ধরনের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে এবং হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটও দেখা দিচ্ছে।
ডেঙ্গু রোগ বাহিত মশা
কোন এলাকায় রোগী বেশি?
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগেই ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা যাচ্ছে।
খুলনা ও বরিশালেও নতুন রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রংপুর বিভাগেও নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে ডেঙ্গুকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে না দেখে সারাদেশে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
চট্টগ্রামেও চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগস্টে চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার খবর পাওয়া যায় এবং শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডকে এডিস মশার প্রজননের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
হাসপাতালগুলোতে কেন বাড়ছে চাপ?
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের অনেকের জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে থাকেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতালের শয্যা সংকটের কথাও উঠে এসেছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।
বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে এসব জায়গা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
নগর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে। শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর না করে মশার লার্ভা ধ্বংস এবং প্রজননস্থল অপসারণে জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ডেঙ্গু রোগ বাহিত মশা
জ্বর হলে অবহেলা নয়
ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত এমন ধারণা করা উচিত নয়।
সামনে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ১৪৩ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
সেপ্টেম্বরের বাকি সময় এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটি এখন বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রস্তুতি, রোগী ব্যবস্থাপনা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।