ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৫৯৩; সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৮৭

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ১,৫৯৩ জন হাসপাতালে এবং সেপ্টেম্বরে মৃত্যু ৮৭
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি
ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি। প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ২০২৬ পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর মাসে আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু বুলেটিন অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। আর বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬১ হাজার ৯৭২ জন।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে

চলতি বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি মাসে ডেঙ্গুতে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুইজন করে এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৮৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯২ জন, চট্টগ্রামে ১৬৭ জন, বরিশালে ১৫৪ জন, রাজশাহীতে ১৩৭ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, রংপুরে ৬৫ জন এবং সিলেটে ৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একদিনে ১ হাজার ৫৮৭ রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ৬১০ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।

কোন বয়সী মানুষ বেশি আক্রান্ত?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার বয়সভিত্তিক তথ্যেও তরুণদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য দেখা যাচ্ছে।

২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৫৩ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৪১ জন রোগী সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ছিল ২০১ জন।

এ ছাড়া ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ১৬৬ জন এবং ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৫৫ জন রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে পানি জমে থাকার সুযোগ তৈরি হলে এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়তে পারে। ফলে ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৬ সালে ডেঙ্গুর সর্বশেষ হিসাব

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী:

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি: ১,৫৯৩ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৬ জন

২০২৬ সালে মোট হাসপাতালে ভর্তি: ৬১,৯৭২ জন

২০২৬ সালে মোট মৃত্যু: ১৮৪ জন

সেপ্টেম্বরে মৃত্যু: ৮৭ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়: ১,৫৮৭ জন

২০২৬ সালে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়: ৫৭,৬১০ জন

সামনে আরও সতর্কতার প্রয়োজন

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং বিভিন্ন বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ২০২৬ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বুলেটিন ও সরকারি ড্যাশবোর্ড অনুসরণ করা উচিত। এই প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।


Follow Us on Facebook 

Read More

বাংলাদেশে LNG সংকট: ঝুঁকিতে শিল্প ও অর্থনীতি