যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় নিরাপত্তায় দেশগুলোকে আত্মনির্ভর হতে হবে: কাতার
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর বড় সতর্কবার্তা কাতারের, উপসাগরীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার আহ্বান
উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ও সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাস্তবতা তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল একটি দেশের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।
উপসাগরীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার প্রয়োজন
মাজেদ আল-আনসারি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের গুরুত্ব রয়েছে। তবে এসব অংশীদারত্ব একাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না।
তিনি মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সংকটের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
ইরান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো
সাম্প্রতিক সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় কাতারসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই উপসাগরীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত কমাতে কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উভয় উদ্যোগই ভেঙে পড়ে।
প্রায় এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আবারও প্রায় এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় নিহতের দাবি
এদিকে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।
এ ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাতারের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশটি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষায় আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।