নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই: রাষ্ট্রপতি মীর্জা ফখরুল
জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই: রাষ্ট্রপতি
ঠাকুরগাঁও: রাষ্ট্রপতি মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়েও পিছপা হবেন না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি দেশের মানুষকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল তার প্রথম সফর। তাকে স্বাগত জানাতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
নাগরিক সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে President Mirza Fakhrul বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। এই অর্জনকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হলে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এ জন্য জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তরুণদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান শক্তি হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। তাই শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; সুশিক্ষিত, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা সঠিক পথে পরিচালিত হলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঠাকুরগাঁওবাসীর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ
নিজ জেলার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা সামাজিক নয়, বরং এর সঙ্গে গভীর আত্মিক বন্ধন রয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আছি, আর আপনাদের সঙ্গে থাকব।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে বলেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক—আমি তোমাদেরই লোক।”
তার এই বক্তব্যে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আবেগঘন হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
প্রথমবার নিজ জেলা সফরে রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও সফরে যান মির্জা ফখরুল। রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি প্রয়াত বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন তিনি। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে এবং তাকে শুভেচ্ছা জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে জড়ো হন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জাতীয় স্বার্থে ঐক্যই মূল শক্তি
নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়। তিনি মনে করেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্যের বিকল্প নেই।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দেশের শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বিশেষ করে নিজ জেলার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের বিষয়টি অনুষ্ঠানে আলাদা আবেগ তৈরি করে।
সংবর্ধনায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির নিজ জেলা সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করার আহ্বানও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার ভাষণে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের অধিকার রক্ষার বার্তাও উঠে এসেছে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো—দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।