বাংলাদেশে LNG সংকট: ঝুঁকিতে শিল্প ও অর্থনীতি

বাংলাদেশের LNG টার্মিনাল ও গ্যাস সরবরাহ সংকট
Floating LNG Terminal

নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশে LNG সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, ঝুঁকিতে শিল্প ও অর্থনীতি

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চলমান Liquefied Natural Gas (LNG) সংকট,গ্যাসের ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক LNG সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, কাতার থেকে সরবরাহে বাধা এবং স্পট মার্কেটে বাড়তি দামে LNG কেনার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে গ্যাসের ঘাটতি শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে।

১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত Reuters-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, উচ্চ LNG মূল্য দেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। জ্বালানির বাড়তি খরচের পাশাপাশি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং LNG ভর্তুকির চাপ সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করা LNG-এর ওপর নির্ভরশীল।

LNG-এর দাম কেন এত বৃদ্ধি পাচ্ছে?

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির বড় প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও LNG পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সরবরাহ কমে গেলে বাংলাদেশকে বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে LNG কিনতে হচ্ছে।

১৪ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে The Business Standard জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৩০ ডলার প্রতি MMBtu দামে LNG কিনছে। সংঘাত শুরুর আগে যে দামে LNG কেনা হতো,বর্তমান দাম তার প্রায় তিন গুণ।

এর আগে আগস্টের শেষ দিকে বাংলাদেশের দুটি LNG কার্গোর জন্য ২৪.২৫ ও ২৪.৬২৫ ডলার MMBtu পর্যন্ত দাম অনুমোদন করা হয়েছিল। সাধারণ পরিস্থিতিতে স্পট LNG-এর দাম প্রায় ১০–১২ ডলার MMBtu এর মধ্যে থাকলেও সংকটের পর তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।

অর্থাৎ LNG-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমস্যা শুধু সরবরাহের নয়;সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে দামও বেড়ে গেছে। ফলে একই পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে সরকারের আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

কাতার থেকে LNG সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে

বাংলাদেশের LNG আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে Qatar Energy বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে LNG সরবরাহ স্থগিত বা বাতিল করেছে।

TBS-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,QatarEnergy বাংলাদেশে LNG সরবরাহের force majeure সময়সীমা বাড়িয়েছে এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় নির্ধারিত কয়েকটি কার্গো বাতিল হয়েছে।

এর সরাসরি অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নির্ধারিত LNG না পাওয়ায় বাংলাদেশকে আরও বেশি পরিমাণে spotcargo এর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর স্পট মার্কেটের মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপও বাড়ছে।

দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক।

৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন,দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ Million Cubic Feet per Day (mmcfd), বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২,৬০০–২,৭০০ mmcfd। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতি প্রায় ১,১০০–১,২০০ mmcfd পর্যন্ত।

বর্তমান সরবরাহের মধ্যে প্রায় ১,৬০০ mmcfd দেশীয় উৎস এবং প্রায় ১,০০০ mmcfd LNG থেকে আসছে বলে তিনি জানান।

নতুন গ্রাহক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা যুক্ত হলে ভবিষ্যতে জাতীয় গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫,২০০ mmcfd পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সরকারি Energy and Mineral Resources Division-এর ড্যাশবোর্ডে ১১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে জাতীয় গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ২,৩৩৩ mmcfd দেখানো হয়েছে।

ডেটাগুলো থেকে স্পষ্ট,দেশের গ্যাস চাহিদা ও বাস্তব সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

LNG সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে শিল্পে

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে দেশের শিল্পখাত।

গ্যাসের চাপ কমে গেলে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা,ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট,সার কারখানা,টেক্সটাইল,স্পিনিং,সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন কমে যায়।

The Daily Star-এর ১১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে Industrial Police-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে,গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৪০০-এর বেশি কারখানা উৎপাদন সমস্যায় পড়েছে। এর মধ্যে ২০২টি কারখানা সংকট অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংকটের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে আংশিক বন্ধ বা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু শিল্প উৎপাদন নয়,রপ্তানি,কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাস সংকটের প্রভাব

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক। তাই গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারে না।

Reuters-এর হিসাবে,বাংলাদেশের ৪০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করা LNG-এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক LNG বাজারের অস্থিরতা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

আগস্টে LNG সরবরাহ কমে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বেশি গ্যাস দেওয়ার কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ আরও কমে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

The Daily Star জানিয়েছিল,আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে LNG সরবরাহ বাড়লেও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২,৪২০ mmcfd,যেখানে চাহিদা ছিল প্রায় ৩,৮০০ mmcfd। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে প্রায় ৯৩০ mmcfd গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫,৩০০ MW পর্যন্ত উঠেছিল।

অর্থাৎ সীমিত গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারকে অনেক সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বনাম শিল্প উৎপাদন, এই কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

লোডশেডিং পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি কয়লা,বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যা এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ওঠানামাও জাতীয় গ্রিডে চাপ বাড়াচ্ছে।

১১ সেপ্টেম্বর TBS জানিয়েছিল,ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একপর্যায়ে কেন্দ্রটির সরবরাহ ১,৪০০ MW-এর বেশি থেকে প্রায় ৭৫০ MW-এর নিচে নেমে যায়। একই সময় জাতীয় গ্রিডে ১৫,৭৭৬ MW চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২,৯০৭ MW, ঘাটতি প্রায় ২,৮৬৯ MW ।

পরে ১৩ সেপ্টেম্বর আদানি কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট আবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় এবং বিকেলে সরবরাহ প্রায় ১,০৪৬ MW*এ ওঠে।

তবে একই সময়ে দেশের অন্য কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কারিগরি সমস্যা থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সরকার কি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে?

সংকট মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রথমত, বিকল্প উৎস থেকে LNG আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। Reuters জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া,অস্ট্রেলিয়া ও চীন থেকে LNG সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

দ্বিতীয়ত, LNG আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর TBS জানিয়েছে,সরকার ২০২৮ সালের আগে তৃতীয় একটি Floating Storage and Regasification Unit (FSRU চালুর লক্ষ্য নিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি ভাসমান LNG টার্মিনাল রয়েছে,যেগুলোর সম্মিলিত regasification capacity প্রায় ১,১০০ mmcfd। নতুন FSRU-এর সম্ভাব্য ক্ষমতা প্রায় ৬০০ mmcfd। পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে প্রায় ১,০০০ mmcfd ক্ষমতার একটি land based LNG terminal তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে,যা ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

তৃতীয় FSRU যুক্ত হলে আমদানিকৃত LNG regasification এর সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় কিছুটা বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে।

১০ হাজার MW সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা

সরকার দীর্ঘমেয়াদে LNG ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও বলছে।

Reuters এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বাংলাদেশ আগামী দিনে প্রায় ১০,০০০ MW সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও প্রত্যাশা

গ্যাস ও LNG সংকটের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

৭ সেপ্টেম্বর তিতুমীর জানিয়েছিলেন,নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৭ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারে।

১৪ সেপ্টেম্বরের TBS প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom-এর মধ্যে রূপপুরের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কথাও এসেছে।

রূপপুরের উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় পরিমাণ স্থিতিশীল বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,যা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে।

LNG tanker transporting liquefied natural gas
Floating LNG Terminal

তবে LNG নির্ভরতা কি কমবে?

এখানেই বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন।

একদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে,অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। ফলে LNG আমদানি বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদায় আমদানি নির্ভরতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরের এক সেমিনারে STEX Foundation-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইজাজ হোসেনের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী,২০১৫ সালে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা আমদানিনির্ভর ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ৬২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই প্রবণতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা।

সামনে পরিস্থিতি কী হতে পারে?

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আন্তর্জাতিক LNG বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে LNG সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য একই সঙ্গে তিনটি চাপ তৈরি হবে

প্রথমত, LNG আমদানি ব্যয় বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, সরকারকে বেশি ভর্তুকি দিতে হবে।

তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন, দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হবে।

এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন,রপ্তানি,কর্মসংস্থান,মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান LNG ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু একটি সাময়িক জ্বালানি ঘাটতি হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি,LNG সরবরাহব্যবস্থা,গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন,বিদ্যুৎ উৎপাদন,শিল্পখাত এবং সরকারি ভর্তুকি, সবকিছুই জড়িয়ে আছে।

স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে LNG সংগ্রহ,গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা জরুরি। আর দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান,নবায়নযোগ্য জ্বালানি,পারমাণবিক বিদ্যুৎ,কৌশলগত জ্বালানি মজুত এবং আমদানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো প্রয়োজন।

বর্তমান সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে তা হলো, জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়, বরং নির্ভরযোগ্য,বহুমুখী ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়।

Facebook

YouTube

আরো পড়ুন-

দৈনন্দিন জীবনে মাইক্রোপ্লাস্টিক: কোথায় আছে, কীভাবে শরীরে পৌঁছায় এবং বিজ্ঞান কী বলছে

নেপাল যেন এক জীবন্ত কবর!