দেশে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা। এর আগে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানির ক্ষেত্রেই এক ধাপে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন দামে ডিজেল-পেট্রল-অকটেন কত-
জ্বালানিআগের দামনতুন দামবৃদ্ধি
ডিজেল১১৫১৩৫২০
কেরোসিন১৩৫১৫৫২০
পেট্রোল১৪০১৫৫২০
অকটেন১৪৫১৬৫২০
সরকারের নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী সোমবার থেকে এসব দাম কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও বিডিনিউজ২৪ এর প্রতিবেদনেও একই মূল্য ও কার্যকর হওয়ার তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেন বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশের বাজারে জনস্বার্থ বিবেচনায় সেই অনুপাতে দাম সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত ছিল।
সরকার আরও জানিয়েছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা হতে পারে। এ হিসাবে ডিজেল খাতে দৈনিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবহন ও পণ্যের দামে কী প্রভাব পড়তে পারে
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পরিবহন খাতে পড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রের পরিচালন ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।
আগের মূল্য সমন্বয়ের পর আবার বড় বৃদ্ধি
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মাসভিত্তিক মূল্য সমন্বয় করা হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তে একসঙ্গে চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার খরচে পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে সরকার কেন এই সময়ে মূল্য সমন্বয় করেছে, তার মূল ব্যাখ্যা হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং বিপিসির লোকসানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সার্বিকভাবে, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। চার ধরনের জ্বালানির প্রতিটির দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।