নেপালে আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। হিমালয়সংলগ্ন দেশটির তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ সংখ্যা জানা গেছে।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ
২৬ আগস্ট থেকে নেপালের উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্রুত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাসুয়া ও আশপাশের অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোতেকোশি নদী ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় পানির প্রবল স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
বন্যার পানিতে বহু বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
প্রায় দুই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের পাশাপাশি নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা নদীর স্রোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। স্বজনদের মধ্যে অনেকেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন উদ্ধারকেন্দ্র ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন।
উদ্ধার অভিযান জোরদার
বিপর্যয়ের পর নেপাল সরকার উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যকে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। দুর্গম ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত হাজারো মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে। তবে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা
উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোতেকোশি নদীর পানি আবারও বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। নদীর আশপাশে পানি ও কাদার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার তৎপরতা ধীরগতির করার প্রয়োজন হয়েছিল। কারণ নতুন করে পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হলে উদ্ধারকারী ও আটকে থাকা মানুষের জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। নেপালের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জলবায়ু ও হিমালয়ের ঝুঁকি
নেপালে আকস্মিক বন্যার এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রাথমিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে হিমবাহ ধস, পাহাড়ি নদীতে আকস্মিক পানিপ্রবাহ এবং ভূমিধসের মতো একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে। তবে দুর্যোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ ও পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো বিশ্লেষণ করছেন।
হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি নদীতে আকস্মিক পানির প্রবাহের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার উদ্যোগ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী ও বিভিন্ন দেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার, পানি, চিকিৎসা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় চিকিৎসা ও জরুরি সেবার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বড় চ্যালেঞ্জ
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নেপালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং জীবিতদের নিরাপদে উদ্ধার করা। পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদেরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ি ও হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
বাংলা অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক! আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাই। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই—এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।